প্রথমে পার্থক্যটা বুঝুন

  • সহোদর ভাই-বোন — একই বাবা ও একই মা। অর্থাৎ আপন ভাই-বোন।
  • বৈমাত্রেয় ভাই-বোনবাবা একই, মা আলাদা। অর্থাৎ সৎ মায়ের ঘরের ভাই-বোন।
  • বৈপিত্রেয় ভাই-বোনমা একই, বাবা আলাদা। অর্থাৎ মায়ের অন্য ঘরের ভাই-বোন।

এই তিনটি গুলিয়ে ফেলাই সবচেয়ে বড় ভুলের উৎস, কারণ তিন ধরনের নিয়ম তিন রকম।

বৈমাত্রেয় ভাই-বোন (একই বাবা)

এঁরা সহোদর ভাই-বোনের ঠিক পরের ধাপে। সহোদর ভাই থাকলে এঁরা কিছুই পান না। সহোদর কেউ না থাকলে এঁরা সহোদরদের মতোই নিয়ম পান — বৈমাত্রেয় ভাই আসাবা, আর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় বোন একজন হলে ১/২, একাধিক হলে মিলে ২/৩।

একটি বিশেষ নিয়ম আছে: একজন সহোদর বোন ১/২ নিলে বৈমাত্রেয় বোনেরা মিলে ১/৬ পান — ২/৩ পূর্ণ করার জন্য। কিন্তু দুই বা তার বেশি সহোদর বোন ২/৩ নিয়ে নিলে বৈমাত্রেয় বোনেরা কিছুই পান না।

সহোদর বোন ১/২ নিয়েছেন, বৈমাত্রেয় বোনেরা মিলে ১/৬ — মোট ২/৩। বাকিটা আসাবা না থাকায় রদ নীতিতে তাঁদের মধ্যেই ফেরত গেছে।

বৈপিত্রেয় ভাই-বোন (একই মা)

এঁদের নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা এবং এখানেই সবচেয়ে বেশি বিস্ময়। এঁরা আসাবা নন, নির্দিষ্ট অংশধারী:

  • একজন হলে ১/৬
  • দুই বা তার বেশি হলে সবাই মিলে ১/৩
  • ভাই ও বোন সমান পান — এখানে ২ : ১ অনুপাত খাটে না। এটি ফারায়েজের একমাত্র জায়গা যেখানে ভাই-বোন সমান।

তবে মৃত ব্যক্তির সন্তান, পৌত্র, পিতা বা দাদা বেঁচে থাকলে বৈপিত্রেয় ভাই-বোন সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন।

বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা মিলে ১/৩ পেতেন, স্ত্রী ১/৪, মা ১/৬। অবশিষ্ট অংশ নেওয়ার মতো কোনো আসাবা না থাকায় রদ নীতিতে স্ত্রী বাদে বাকিদের অংশ বেড়েছে।

সবচেয়ে বিখ্যাত মাসআলা — আল-মুশাররাকা

এটি ফারায়েজের সবচেয়ে বিতর্কিত মাসআলা এবং হানাফি মাযহাব এখানে অন্যদের থেকে আলাদা।

লক্ষ করুন — সহোদর ভাইয়েরা কিছুই পাচ্ছেন না, অথচ বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা পাচ্ছেন। কারণ বৈপিত্রেয়রা নির্দিষ্ট অংশধারী, আর সহোদর ভাইয়েরা আসাবা — এবং নির্দিষ্ট অংশধারীদের অংশেই সম্পূর্ণ সম্পত্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট কিছু নেই।

হযরত উমর (রা.) প্রথমে এই রায়ই দিয়েছিলেন, পরে সহোদর ভাইদের বৈপিত্রেয়দের সাথে শরিক করেন। ইমাম আবু হানিফা প্রথম রায়েই অটল — তাই এই ক্যালকুলেটর হানাফি মতে সহোদর ভাইদের ০ দেখায়। মালিকি ও শাফিয়ি মাযহাবে ফল ভিন্ন হবে।

আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন

ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।

ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

না। আপন (সহোদর) ভাই থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই কিছুই পান না। সহোদর কেউ না থাকলে তবেই বৈমাত্রেয় ভাই পাবেন।
না। বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন সমান অংশ পান। এটি ফারায়েজের একমাত্র ব্যতিক্রম যেখানে ভাই-বোনের অংশ সমান।
অবশ্যই। বাবার সব সন্তানই — যে মায়ের গর্ভেই হোক — বাবার সম্পত্তিতে পূর্ণ ওয়ারিশ। "সৎ" শব্দটি এখানে বিভ্রান্তিকর; বাবার দিক থেকে তাঁরা সবাই আপন সন্তান।
হ্যাঁ, স্ত্রী হিসেবে তিনি ১/৮ বা ১/৪ অংশ পাবেন। তবে সৎ সন্তানের সম্পত্তিতে সৎ মায়ের কোনো অংশ নেই, কারণ রক্তের সম্পর্ক নেই।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা আলাদা এবং ছোট একটি তথ্যেও ফলাফল বদলে যেতে পারে। চূড়ান্ত বণ্টনের আগে একজন বিজ্ঞ আলেম ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।