জমি পরিমাপের সম্পূর্ণ সূত্রভাণ্ডার
জমির আকৃতি বুঝে সঠিক সূত্র বেছে নিন। প্রতিটি চিত্রে A, B, C, D ইত্যাদি ইংরেজি পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়েছে—মাঠে বা নকশায় যেভাবে মাপ লেখা হয়, সেভাবেই মিলিয়ে দেখা সহজ হবে।
কোন সূত্র কখন ব্যবহার করবেন?
জমির আকৃতি ও আপনার হাতে থাকা মাপ দেখে নিচের পথ বেছে নিন।
হেরনের সূত্র ব্যবহার করুন। ভূমি ও লম্ব উচ্চতা জানা থাকলে ½ × ভূমি × উচ্চতা আরও সরল।
কর্ণ দিয়ে দুইটি ত্রিভুজ করুন এবং দুই ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল যোগ করুন। এটি শুধু চার বাহুর গড় পদ্ধতির চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।
প্রকৃত ক্ষেত্রফল এককভাবে নির্ধারণ করা যায় না। আনুমানিক বা সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ফলকে exact মাপ ধরে নেবেন না; সম্ভব হলে একটি কর্ণ মাপুন।
একটি সুবিধাজনক বিন্দু থেকে কর্ণ টেনে জমিটিকে ত্রিভুজে ভাগ করুন, প্রতিটির ক্ষেত্রফল বের করে শেষে যোগ করুন।
১. পরিমাপের মৌলিক এককসমূহ
বাংলাদেশে প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড মানের দ্রুত রেফারেন্স। স্থানীয় কাঠা/বিঘার মান অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে।
শতাংশ ও বর্গফুট
কাঠা ও বিঘা
চেইন ও লিংক
২. চারকোণা জমি: গড় পদ্ধতি বনাম কর্ণ পদ্ধতি
অনিয়মিত চারকোণা জমিতে শুধু বিপরীত বাহুর গড় গুণ করলে ফল আনুমানিক হয়। একটি কর্ণ মেপে দুইটি ত্রিভুজে ভাগ করলে হিসাব অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।
৩. ত্রিভুজ জমির সূত্র
তিন বাহু জানা থাকলে হেরনের সূত্র; সমকোণী ত্রিভুজে ভূমি × উচ্চতা পদ্ধতি সবচেয়ে সরল।
৩.১ তিন বাহু জানা — হেরনের সূত্র
সর্বাধিক ব্যবহারযোগ্যএখানে a = BC, b = CA এবং c = AB।
৩.২ সমকোণী ত্রিভুজ
A বিন্দুতে ৯০° কোণ হলে AB = উচ্চতা এবং AC = ভূমি।
৪. ট্রাপিজিয়াম — দুই সমান্তরাল বাহুর জমি
AB ও CD সমান্তরাল হলে তাদের যোগফলের অর্ধেকের সঙ্গে লম্ব উচ্চতা h গুণ করুন।
h হলো AB ও CD-এর মাঝের লম্ব দূরত্ব; তির্যক বাহুর দৈর্ঘ্য h নয়।
৫. আয়তক্ষেত্র ও বর্গক্ষেত্র
সোজা চারকোণা জমিতে ABCD পয়েন্ট ধরে বাহুগুলোর মাপ ব্যবহার করুন।
আয়তক্ষেত্র (Rectangle)
বর্গক্ষেত্র (Square)
৬. সামান্তরিক ও রম্বস
সামান্তরিকে ভিত্তি ও লম্ব উচ্চতা; রম্বসে দুই কর্ণ ব্যবহার করুন।
সামান্তরিক (Parallelogram)
রম্বস (Rhombus)
৭. বৃত্তাকার ও উপবৃত্তাকার জমি
বৃত্তে কেন্দ্র O থেকে ব্যাসার্ধ r; উপবৃত্তে দুই অর্ধ-অক্ষ a ও b ব্যবহার করুন।
বৃত্ত (Circle)
উপবৃত্ত (Ellipse)
৮. আঁকাবাঁকা বা অনিয়মিত বহুভুজ জমি
শেষের এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: একটি পয়েন্ট থেকে কর্ণ টেনে জমিটিকে আলাদা ত্রিভুজে ভাগ করুন, প্রতিটি ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল বের করে শেষে যোগ করুন।
- A থেকে C, D, E, F পর্যন্ত কর্ণ মাপুন।
- এতে ABC, ACD, ADE, AEF, AFG—পাঁচটি ত্রিভুজ হবে।
- প্রতিটি ত্রিভুজে তিন বাহু নিয়ে Heron formula ব্যবহার করুন।
- সব ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল যোগ করলেই মোট জমি পাবেন।