স্ত্রীর সম্পত্তি বলতে কী বোঝায়

প্রথমেই একটি ভুল ধারণা দূর করা দরকার। বাংলাদেশে অনেকে মনে করেন স্ত্রীর আলাদা কোনো সম্পত্তি থাকে না। বাস্তবে ইসলামী আইনে স্ত্রীর সম্পত্তি সম্পূর্ণ আলাদা ও নিজস্ব — তাঁর দেনমোহর, বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার, উপহারের গয়না, নিজের উপার্জন, সবই।

স্ত্রী মারা গেলে এই সম্পত্তি ফারায়েজ অনুযায়ী বণ্টন হয় — যেখানে স্বামী একজন ওয়ারিশ মাত্র, মালিক নন।

দুটি অবস্থা

  • সন্তান আছে (ছেলে বা মেয়ে, অথবা পুত্রের সন্তান): স্বামী পাবেন ১/৪ অংশ
  • কোনো সন্তান নেই: স্বামী পাবেন ১/২ অংশ

এখানেও সন্তান বলতে মৃত স্ত্রীর যেকোনো সন্তান বোঝায় — আগের স্বামীর ঘরের সন্তান থাকলেও স্বামীর অংশ ১/৪-ই হবে।

সন্তান থাকায় স্বামী ১/৪ পাচ্ছেন। অবশিষ্ট ৩/৪ অংশ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২ : ১ অনুপাতে ভাগ হয়েছে।

সন্তান না থাকায় স্বামী ৫০% পাচ্ছেন। এটিও উমারিয়্যা মাসআলা — মাতা পুরো সম্পত্তির ১/৩ নয়, স্বামীর অংশ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্টের ১/৩ অর্থাৎ ১৬.৬৭% পাচ্ছেন। বাকি ৩৩.৩৩% পিতার।

এই একটি জায়গায় বহু আইনজীবী ও হিসাবকারী ভুল করেন — মাকে ৩৩.৩৩% দিয়ে ফেলেন, যাতে মায়ের অংশ বাবার চেয়ে বেশি হয়ে যায়।

মেয়েরা ২/৩ পেতেন, স্বামী ১/৪। অবশিষ্ট অংশ নেওয়ার মতো কেউ না থাকায় তা রদ নীতিতে মেয়েদের ভাগে যোগ হয়েছে। স্বামীর ২৫% অপরিবর্তিত।

যে দুটি বিষয় মনে রাখা জরুরি

  • স্বামীর অংশ কখনো বাড়ে না। রদ নীতিতে অবশিষ্ট অংশ ফেরত গেলেও স্বামী তাতে ভাগ পান না।
  • স্ত্রীর দেনমোহর বাকি থাকলে সেটি স্বামীর উপর ঋণ হিসেবে বকেয়া থাকে এবং স্ত্রীর সম্পত্তির সাথে যুক্ত হয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হয়।

আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন

ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।

ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

না। বিয়েতে বা পরে স্ত্রীকে দেওয়া গয়না তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি। স্ত্রী মারা গেলে সেই গয়না তাঁর সব ওয়ারিশের মধ্যে ফারায়েজ অনুযায়ী বণ্টিত হবে, স্বামী তার একটি অংশমাত্র পাবেন।
শুধুমাত্র আর কোনো ওয়ারিশ না থাকলে। সন্তান, পিতা-মাতা, ভাই-বোন কেউ থাকলে স্বামী ১/৪ বা ১/২-ই পাবেন।
নির্দিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে হ্যাঁ — সন্তান থাকলে স্ত্রী ১/৮ ও স্বামী ১/৪; সন্তান না থাকলে স্ত্রী ১/৪ ও স্বামী ১/২।

সম্পর্কিত লেখা

বি.দ্র. এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা আলাদা এবং ছোট একটি তথ্যেও ফলাফল বদলে যেতে পারে। চূড়ান্ত বণ্টনের আগে একজন বিজ্ঞ আলেম ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।