স্ত্রীর অংশ কেন বদলায়
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রীর অংশ পবিত্র কোরআনে নির্দিষ্ট করা আছে, এবং তা নির্ভর করে একটি বিষয়ের উপর — মৃত স্বামীর সন্তান আছে কি না।
এখানে "সন্তান" বলতে শুধু ওই স্ত্রীর গর্ভের সন্তান বোঝায় না। স্বামীর অন্য স্ত্রীর সন্তান থাকলেও স্ত্রীর অংশ ১/৪ থেকে কমে ১/৮ হয়ে যাবে। পুত্রের সন্তান (নাতি-নাতনি) থাকলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
একাধিক স্ত্রী থাকলে
এটি অনেকেই ভুল করেন। স্ত্রীর সংখ্যা যতই হোক — এক, দুই, তিন বা চার — মোট অংশ একই থাকে। অর্থাৎ চারজন স্ত্রী থাকলে তাঁরা প্রত্যেকে ১/৮ পাবেন না; বরং ওই ১/৮ অংশটিই চারজনে সমান ভাগ করে নেবেন, অর্থাৎ প্রত্যেকে ১/৩২।
সন্তান থাকায় স্ত্রী ১/৮ পাচ্ছেন। অবশিষ্ট ৭/৮ অংশ সন্তানদের মধ্যে ২ : ২ : ১ অনুপাতে ভাগ হয়েছে।
সন্তান না থাকায় স্ত্রী দ্বিগুণ — ১/৪ পাচ্ছেন। এখানে আরেকটি বিশেষ নিয়ম কাজ করেছে: এটি উমারিয়্যা মাসআলা। স্ত্রী ও পিতা একসাথে থাকলে মাতা পুরো সম্পত্তির ১/৩ নয়, বরং স্ত্রীর অংশ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্টের ১/৩ পান — অর্থাৎ ২৫%। বাকিটা পিতা আসাবা হিসেবে নেন।
চারজন স্ত্রী মিলে মোট ১/৮ পাচ্ছেন — জনপ্রতি ৩.১২৫%। অবশিষ্ট ৭/৮ পুত্রের।
স্ত্রী কী কী পান — শুধু উত্তরাধিকার নয়
- দেনমোহর — এটি উত্তরাধিকারের আগে ঋণ হিসেবে পরিশোধ হয়। অর্থাৎ অপরিশোধিত দেনমোহর প্রথমে সম্পত্তি থেকে বাদ যাবে, তারপর বাকিটা বণ্টন হবে। স্ত্রী দেনমোহর ও উত্তরাধিকার — দুটোই পাবেন।
- নিজের অর্জিত ও উপহারের সম্পত্তি — স্ত্রীর নিজের নামের সম্পত্তি স্বামীর সম্পত্তির অংশ নয়, তা পুরোটাই তাঁর।
- ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ — এটি আইনি বিষয়, উত্তরাধিকারের চেয়ে আলাদা।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন
ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।
ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →