এক-তৃতীয়াংশের নিয়ম কোথা থেকে এল
হাদিসে এসেছে, সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) অসুস্থ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি তাঁর সব সম্পত্তি সদকা করে দিতে পারেন কি না। রাসূল ﷺ নিষেধ করেন। অর্ধেকের কথা বললেও নিষেধ করেন। শেষে বলেন — এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। এরপর যোগ করেন যে ওয়ারিশদের সচ্ছল রেখে যাওয়া তাঁদের মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।
এখান থেকেই ১/৩ সীমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে — যাতে ওয়ারিশদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
হিসাবটা কীভাবে হয়
১/৩ হিসাব হয় দাফন খরচ ও ঋণ পরিশোধের পরের অবশিষ্ট সম্পত্তির উপর, মোট সম্পত্তির উপর নয়।
উদাহরণ: মোট সম্পত্তি ২০,০০,০০০ টাকা, দাফন খরচ ও ঋণ মিলিয়ে ২,০০,০০০ টাকা। তাহলে অবশিষ্ট ১৮,০০,০০০ টাকা, আর ওসিয়তের সর্বোচ্চ সীমা ৬,০০,০০০ টাকা। কেউ যদি ১০ লাখ ওসিয়ত করে যান, তবে ওয়ারিশরা সম্মত না হলে মাত্র ৬ লাখ কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় শর্ত — ওয়ারিশের পক্ষে ওসিয়ত নয়
যিনি ইতিমধ্যেই ফারায়েজ অনুযায়ী অংশ পাচ্ছেন, তাঁর জন্য আলাদা করে ওসিয়ত করা যায় না। যেমন এক ছেলেকে অন্য ছেলের চেয়ে বেশি দেওয়ার জন্য ওসিয়ত করলে তা কার্যকর হবে না — অন্য ওয়ারিশরা সম্মতি না দিলে।
হাদিসে স্পষ্ট এসেছে — "আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক দিয়ে দিয়েছেন, তাই ওয়ারিশের জন্য কোনো ওসিয়ত নেই।"
তাহলে ওসিয়ত কাদের জন্য? যাঁরা ওয়ারিশ নন — যেমন এতিমখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, অমুসলিম আত্মীয়, পালিত সন্তান, অথবা এমন কোনো আত্মীয় যিনি নিকটতর ওয়ারিশের কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ওসিয়ত করার সময় যা মনে রাখবেন
- ওসিয়ত লিখিত হওয়া ভালো এবং অন্তত দুইজন সাক্ষী থাকা উচিত।
- ওসিয়ত যেকোনো সময় বাতিল বা পরিবর্তন করা যায় — জীবিত থাকা অবস্থায় এটি চূড়ান্ত নয়।
- ওসিয়ত আর হেবা বা দান এক নয়। দান জীবিত অবস্থায় হস্তান্তর সম্পন্ন হলে কার্যকর এবং ১/৩ সীমা প্রযোজ্য নয়। তবে মৃত্যুশয্যায় করা দানের ক্ষেত্রে ওসিয়তের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
- ওসিয়ত গুনাহের কাজে করা যায় না, তেমন ওসিয়ত বাতিল।
আপনার নিজের পরিবারের হিসাব করুন
ওয়ারিশদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ দিন — মুহূর্তেই পাবেন বিস্তারিত বণ্টন তালিকা, হিসাবের ধাপ এবং প্রিন্টযোগ্য রিপোর্ট।
ফ্রি ক্যালকুলেটর খুলুন →